অসমাপ্ত ভালোবাসা : The Story Of a Simple Boy And a Angry Girl
ভালোবাসার গল্প বা লাভ স্টোরি তো অনেক শুনে থাকবেন হয়তো। কিন্তু এই গল্পটা একটু আলাদা। এখানে যেমন রয়েছে অত্যাধিক ভালোবাসা, মায়া তেমনি রয়েছে অনেকটা পরিমাণ ঘৃণা।তো শুরু করি আজ সেই গল্পটা।
"The Story Of a Simple Boy And a Angry Girl"এটা ছিল ২০২৩ শে অক্টোবর মাস। প্রতিদিনের মতো পড়ালেখা শেষ করে ফেসবুকে ঘোরাঘুরি করছিলাম। হঠাৎ করে একটা মেয়ের আইডি সামনে আসে। আইডিটার নাম Prite Roy। আমি আইডিটার ভিতরে ঢুকলাম। দেখি আইডিটা লক করা। আমি এড ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিলাম। তারপর আইড়ি থেকে বের হয়ে অন্যান্য ভিডিও আর ছবি দেখা শুরু করলাম। মেয়েটার আইডি ছবি দেখে আমার একটু একটু পছন্দ হয়েছিল মেয়েটাকে, আমি এটাকে পাত্তা না দিয়ে অন্যান্য কাজ করছি। রিকোয়েস্ট দেওয়ার এক থেকে দুইদিন পর রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করল।আমি তো মনে মনে মহাখুশি। তারপর তাকে এসএমএস দিলাম! হাই, কেমন আছেন? প্রায় একদিন পর রিপ্লাই আসলো.....হ্যালো, ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন? আমি বললাম হ্যাঁ ভালো আছি। তারপরে জিজ্ঞাসা করলাম বাসা কোথায়? কোন ক্লাসে পড়ে? সে বলল আমি বরিশালে থাকি এক দশম শ্রেণীতে পড়ি। এরপরে আর অল্প কিছু কথা বলার পরে সে অফলাইনে চলে গেল।
আমিও কিছুক্ষন আরো ফেসবুক চালিয়ে বের হয়ে গেলাম। আমার একটা খারাপ নেশা ছিল। সারাদিন ফ্রী-ফায়ার গেম খেলার নেশা। রাতে ফেসবুকে এসে দেখি সে আবার অনলাইনে আসছে। আমি আবার এসমএস দিলাম,কি করেন? সে বললো এইতো শুয়ে আছি। আপনি কি করেন? আমি বললাম এইমাএ গেম খেলা শেষ করছি, এখন পড়তে বসবো ভাবছি। তারপর একটু কথা বলে অনলাইন থেকে বের হয়ে আমি পড়তে বসি। এরপর থেকে প্রতিদিন তিন থেকে চার বার আমাদের কথা হয়। এভাবে আরো কিছুদিন কথা বলার পরে আমি তাকে সরাসরি প্রপোজ করে দিলাম। আমি বললাম আপনাকে আমার অনেক আগেই পছন্দ হয়েছে কিন্তু বলতে পারিনি। আপনি কি আমার সাথে রিলেশনে আসবেন....?যদি আসেন তাহলে দুজনের রাজি থাকলে পরে বিয়ে করে নেব।সে তখন তেমন কিছু বলেনি। শুধু বললো ভেবে দেখবো। আমি বললাম ঠিক আছে আমি অপেক্ষায় রইলাম।
সেদিনের রাতে আমি কোন মেসেজ দেইনি।পরের দিন সকালে এসএমএস দিলাম। কি ভাবলেন? সে বলল আমি রিলেশনে আসতে পারি কিন্তু কথা দিতে হবে কখনো ছেড়ে যাবেন না। আর আমাকে বিয়ে করতে হবে। আর অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাবেন না। আমি বললাম, আমি রাজি কিন্তু আমার পড়াশোনা এখনো অনেক বাকি।সবে আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। আমি মাস্টার্স শেষ করে তারপর বিয়ে করবো। সে বলল ঠিক আছে সমস্যা নাই। আমি অপেক্ষা করবো।
আমি তাকে প্রপোজ করেছিলাম অক্টোবর মাসের ২৯ তারিখ এবং সে আমাকে পুরোপুরি একসেপ্ট করেছিল অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ। আমি আমার জীবনে ঘটা সবকিছু একটা নোট প্যাডে নোট করে রাখতাম।তাই এই ঘটনাটাও লেখা শুরু করলাম।
তারপর একটা সাধারণ রিলেশনশিপের মত আমাদের রিলেশনটা ছিল। সারাদিন যখনই সময় পেতাম তাকে এসএমএস দিয়ে কথা বলতাম। সে আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিত এবং আমিও যত রাত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এভাবে প্রায় এক সপ্তাহ যাওয়ার পর ৮ই নভেম্বর আমাদের মধ্যে একটা বিষয় নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়।
ঝগড়ার কারণ ছিল সারাদিন গেম খেলা। আমি আগেই বলছিলাম আমি সারাদিন গেম খেলতাম, গেম খেলাটা ছিল আমার একটা নেশা। ঝগড়ার একটা পর্যায়ে গিয়ে সে বলল হয় গেম ছাড়ো নয়তো আমাকে ছাড়ো।এই কথা শোনার পরে আমি তাকে বলছি শোনো অনেক দিনের অভ্যাস তো গেমটা ছাড়তে একটু সময় লাগবে। আজ সারাদিন বাসায় বসে কি করবো আমি? সে বলল বই পড়ো, টিভি দেখো, ফেসবুকে ভিডিও দেখো, নয়তো আমার সাথে কথা বল কিন্তু গেম খেলতে পারবা না। এই কথা বলা অফলাইনে চলে গেল আর সারাদিন অনলাইনে আসলো না। আমি অনেকগুলো এসএমএস দিছি সারাদিন। কিন্তু সে তো অনলাইনে নেই। সন্ধ্যার দিকে অফিসে অনলাইনে আসলো। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সারাদিন অনলাইনে আসে নাই কেন? সে বলল আমি অনলাইনে এসে কি করব? তুমি সারাদিন গেম খেলো কাজে লাগবে। আমি বললাম তোমাকে তো বলছি আমাকে কিছু সময় দিতে গেম খেলাটা ছাড়ার জন্য, তারপরও তুমি এমনটা করলা। আমি তাকে বললাম.....
যত যাই হোক এইভাবে সারাদিন অফলাইনে থাকবো না। ঝগড়া হইলে মন খারাপ হলে কথা বলে ঠিক করে নিব। রাগ করলে, রাগ দেখাবা। কথা শোনাবা ইচ্ছামত। কিন্তু কখনো ছাইড়া যাবার কথা বলবো না আর এইভাবে অফলাইনে থাকবেনা সারাদিন। আর বলছিলাম যে আর কোনদিন গেম খেলব না।এরপর সব কিছু আবার ঠিক হয়ে গেল। ভালোভাবে তার ছিল আমাদের সময়। তবে এখানে একটা কথা আছে আমি এখনো পর্যন্ত ওর ভয়েসটাই শুনি নাই বা সামনাসামনি ভিডিও কলে দেখিনি।
১০ই ডিসেম্বর প্রথমবার তার ভয়েস দিয়েছে আমাকে। সে ভয়েজ দিয়েছিল এসএমএস এর মাধ্যমে মেসেঞ্জারে। এতদিন যে হালকা-পাতলা প্রেম করছি তা এখন ওর ভয়েসটা শুনে মায়া পরিণত হয়ে গেছে। এরপর একদিন সে আমাকে আবার বলল আচ্ছা আমরা বিয়ে করবো কবে? আমি আবারো বললাম আমি মাস্টার্স শেষ করে তারপর বিয়ে করব। আরো ৫ বছর পর।
১০ই ডিসেম্বর প্রথমবার তার ভয়েস দিয়েছে আমাকে। সে ভয়েজ দিয়েছিল এসএমএস এর মাধ্যমে মেসেঞ্জারে। এতদিন যে হালকা-পাতলা প্রেম করছি তা এখন ওর ভয়েসটা শুনে মায়া পরিণত হয়ে গেছে। এরপর একদিন সে আমাকে আবার বলল আচ্ছা আমরা বিয়ে করবো কবে? আমি আবারো বললাম আমি মাস্টার্স শেষ করে তারপর বিয়ে করব। আরো ৫ বছর পর।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তোমার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিবে কিনা? সে বললো তার বাবা তার মেয়ের পছন্দের ছেলের সাথে তাকে বিয়ে দিবে। সে আরো বললো তুমি চিন্তা করো না বিয়ে করলে তোমাকেই করবো। তারপর আমি একটু মজা করে বললাম তাহলে বিয়ে যখন করবে তবে এখন একটু জামাই বলে ডাকো। আর আইডির নিক নামটা Future Jamai দাও। সে প্রথম প্রথম অনেক লজ্জা পাচ্ছিল কিন্তু পরে সত্যি সত্যি নিক নেম চেঞ্জ করে দিয়েছিল। এই দিনটার পরে আমি অন্য কোন মেয়ের দিকে কোনদিন ঘুরেও তাকাইতাম না। নিজেকে অন্যভাবে তৈরি করতে লাগলাম। নিজেকে ওর যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছিলাম। সে আমাকে বলছিল, শোনো আমি কখনো কারো সাথে কোন কিছুতে এডজাস্ট করি নাই,আমার যখন যা ইচ্ছা তাই করি। তুমি আমার জীবনে সেই মানুষ যার সাথে আমি এডজাস্ট করে চলার চেষ্টা করি। কখনো ছাইড়া দেওয়ার চেষ্টা করো না প্লিজ।
এই কথাগুলো শোনার পরে আমি ওর ওপর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ি। প্রাইভেটের পড়াশুনা শেষ করে যখনই সময় পেতাম ওর সাথে কথা বলতাম, ওরে সময় দিতাম যতটা সম্ভব। ওর সাথে কথা বললে কখন যে সময় পার হয়ে যেত বুঝতেই পারতাম না।
এরপর একদিন ওর সাথে ভিডিও কলের সামনাসামনি কথা বলতে চাইলাম। ও রাজি ছিল না। ও আমাকে বলে তুমি ভয়েস কলে কথা বলতে পারো কিন্তু ভিডিও কলে কথা বলতে পারবো না আমি সামনাসামনি। আমি কারণ জিজ্ঞাসা করলে, সে বলল তার বাবা-দিদি নাকি তাকে দিব্যি দিয়েছে কারো সাথে রিলেশন করলেও যেন ভিডিও কলে কথা না বলে। তবে সে আমাকে কথা দিয়েছে কিছুদিন পরে কলাপাড়া এসে আমার সাথে দেখা করবে সামনাসামনি। তাই আমি আর জোর করিনি ভিডিও কলে কথা বলার জন্য।
প্রথমবার আমাদের যখন ভয়েস কলে কথা হয়েছিল, তখন আমি ছিলাম কলেজে। কি কথা বলবো তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেকটা আনইজি লাগছিল।কেমন জানি একটা লাগছিল নিজের ভেতর। যতই হোক জীবনের প্রথম রিলেশন ছিল এটা। সেদিন তেমন কোন কথাই বলিতে পারিনি। পরের দিন আবার কল দিলাম। সেদিন অল্প সময় কথা বলে একটু ইজি হয়ে নিলাম। সেও আস্তে আস্তে একটু নরমাল হয়ে কথা বলতে শুরু করল। এরপর থেকে প্রতিদিন সকালে আর দুপুরে কথা হতো।রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস ছিল তাই রাতে সময় দিতে পারতাম না। তাও মাঝে মাঝে সময় পেলে রাতে কথা হতো। মাঝে মাঝে রাত ১২ টায় শুরু করতাম কথা বলা সকাল হয়ে যেত শেষ করতে করতে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম তা বুঝতামই না। এভাবে করে কথা বলতে বলতে আমাদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্কটা আরো গভীর হয়ে গিয়েছিল।
আগে আমি ওর খোঁজ বেশি নিতাম কিন্তু এখন সে আমার কেয়ার করা শুরু করে দিছে। মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া হতো আবার রাতে ঘুমানোর আগে সব মিটিয়ে ফেলতাম আর একটা শান্তির ঘুম দিতাম। একটা মেয়ে কতটা ভালোবাসতে পারে তা বুঝতে পারছিলাম কিছুটা হলেও। আমার ভাগ্যে এতটা ভালোবাসা জুটবে তা ভাবতে পারেনি।
একটা কথা আমি সব সময় বলি,অনেকেই শুনে থাকবেন হয়তো।
"ভালোবাসি কথাটা তো সবাই বলতে পারে....!!
কিন্তু আমার মত লয়াল ভাবে কে ভালবাসতে পারে....."
তো আমাদের দুজনের মধ্যে ভালোবাসাটা এমন ছিল যে আমি ওর জন্য আমার সব মেয়ে বন্ধুর সাথে কথা বলার প্রায় বন্ধ করে দেই। খুব প্রয়োজন না হলে কথা বলতাম না। আমার আইডির পাসওয়ার্ড ছিল ওর কাছে, আর ওর আইডির পাসওয়ার্ড ছিল আমার কাছে। আমি ওকে বলে দিয়েছিলাম কোন ছেলের সাথে কথা না বলতে। আমি জানতাম ওর একটা ছেলে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। তার নাম আবির। আবির হলো প্রীতির বাবার বন্ধুর ছেলে। প্রীতি ওর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল। আবির বাসায় গিয়ে কথা বলতে চাইছে কিন্তু সে তার রুম থেকেই বের হয় নাই । আমি তাকে বলছি দয়া করে কখনো বিশ্বাস ভেঙে দিবানা। আমি তাকে বলছি আমি তোমায় সামনাসামনি দেখিনি এখনো কিন্তু তোমার প্রতি অসম্ভব মায়া সৃষ্টি হয়ে গেছে যে মায়া আমি কখনো কাটাতে পারবো না।
সে আমাকে ভরসা দিল, আমি শুধু তোমার।তুমি যা বলবা তাই শুনবো, কখনো ঠকাবো না, নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসে ফেলসি তোমাকে। আমি কোন ছেলে বন্ধু রাখবো না, তুমি আমার সব।কিন্তু কখনো ছাইরা যাবা না কারন এত কিছুর পর যদি তুমি কোন দিন সাইরা দাও তাহলে আমার মরে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা। আমি বললাম কি বলো এসব মরে যাবা কেন। এইসব কথা আর বলবা না। তারপর আর কিছুক্ষণ কথা বলার পর,
"সে আমাকে বলো তার শরীরটা নাকি অনেক খারাপ" সে বলল আমি কথা বলতে পারছি না অনেক কষ্ট হইতেছে, বুকে ব্যথা করছে। আমি তাড়াতাড়ি করে কল দিলাম কথা বলা শুরু করলাম। বুকে ব্যথার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম আমি। ওর কথা শুনে আমি রীতিমতো হতভন্ধ হয়ে গেলাম।
ও বলল সকালের ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল বুকে ব্যথার জন্য। টেস্ট করার পর দেখা গেছে হার্টের ৩০% ব্লক হয়ে গেছে।
এই কথা শোনার পরে কি ভালো থাকতে পারে। ও আমার সাথে কথা বলতে বলতে কান্না শুরু করে দিল, আমি আর বেশি দিন বাঁচবো না। আমি নিজেকে শক্ত করে নিলাম তারপর বললাম আরে কি হয়েছে মাত্র ৩০ %ব্লক হয়েছে, অপারেশন করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
ওর বাবা ওরে অপারেশনের জন্য রাজি করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারিনি। কিন্তু আমি ওকে বলছি তুমি কি বাঁচতে চাও না.....??
তোমার কি বাঁচতে ইচ্ছে করে না.....??
তুমি কি চাওনা আমাদের দেখা হোক....??
সে আমার কথা শুনে আরও জোরে জোরে কান্না শুরু করলো। আর বলতে লাগলো আমি বাঁচতে চাই। আমি তোমার জন্য বাঁচতে চাই। কিন্তু আমার হাতে বেশি সময় নেই অনেক দেরি করে ফেলছি আমি। আমি বললাম তুমি তোমার বাবাকে বলবা তুমি রাজী অপারেশনের জন্য। তারপরে ওর বাবার সাথে কথা বলে, ওর বাবা অপারেশনের সব ব্যবস্থা করে। কিন্তু এর মধ্যে অনেক অসুস্থ হয়ে পরা শুরু করে, ওর বাবা অপারেশনের জন্য বিদেশ নিয়ে যাবে ভাবছিল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বরিশালের হসপিটালে অপারেশন করানো হবে বলে ঠিক করা হয়। অপারেশনের দিন ঠিক করা হয় ২৫/০১/২০২৪ তারিখ। আজ ১৯ তারিখ, কাল ২০ তারিখ আমার জন্মদিন। এই কথাগুলো শোনার পরে আমার একটু ইচ্ছে করছিল না জন্মদিন পালন করার। কিন্তু বাসায় সবাই মিলে কেক কেটে অনুষ্ঠান করবে। তাই আর না করতে পারলাম না।
ভাবছিলাম রাত বারোটার সময় তার কাছে থেকে জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছাটা পাব, কিন্তু সারারাত অপেক্ষা করার পরও তার শুভেচ্ছা পাইলাম না। অনেক অপেক্ষা করার পরে ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু পরদিন সকালেই আমি তার কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছি জন্মদিনের। আমি যে ওর ওপর রাগ হবো তাও পারছি না। ওর মতো করে কেউ কখনো আমাকে উইশ করে নাই। ওর লেখা উইশটা দেখে আমার আনন্দ তো হচ্ছিল আবার ওর কথা মনে পড়ে চোখ লাল হয়ে গেল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন কাল রাতে wish করো নাই। ও বলল শরীর অনেক খারাপ ছিল তাই ঘুমিয়ে পড়েছিল। অনেক চেষ্টা করছি জেগে থাকার কিন্তু পারি নাই।আমি বললাম আচ্ছা সমস্যা নাই। তারপর কিছুক্ষণ কথা বলে বের হয়ে গেলাম ফেসবুক থেকে। সারাদিন অনেক কাজ ছিল বাসায়। তাই কথা বলার সময় পাইনি তার সাথে। সারাদিন অনুষ্ঠান আর জন্মদিন নিয়ে মেতে থাকার পরে রাতে যখন আমার ফোনটা চেক করলাম দেখি এসএমএস দিয়ে ভরে ফেলছে আমার ইনবক্স। আমি তাড়াহুড়ো করে রিপ্লাই দিতে শুরু করলাম।আমাকে বলল রিপ্লাই দিসো কেন তুই?
অনলাইনে আসছোস কেন তুই?
আমি বললাম কি বলো এসব...?
ও বলল তুই সারাদিন অনলাইনে আসো নাই কেন?
তোর জন্য চিন্তা করতে করতে আমি শেষ হয়ে যাব কবে যেন। আমি বললাম Sorry সোনা।
তুমি তো জানোই আজকে আমার জন্মদিন ছিল। তাই সারাদিন বাসায় অনেক ব্যস্ত ছিলাম। অনলাইনে আসতে পারিনি। ঠিক আছে কিন্তু এমন আর কখনো করবো না। আমি বললাম, প্রমিস আর কখনো করবো না। তারপর আমি ওকে বললাম শোনো একটা কথা আছে। ও বলল কি বলবা বলো। আমি বললাম ভিডিও কল দাও। আমি দেখতে চাই আমার জান টাকে। ও বলল এখন পারবো না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন? ও বলল আমি তো বলছি আমার বাবা, আর আমার দিদির, কাছে আমি কথা দিয়েছি আমি ভিডিও কলে কারো সাথে কথা বলবো না। কিন্তু কষ্ট পেয়ো না ২৬ তারিখ আমি নিজে তোমাকে ভিডিও কল দিব কথা দিলাম। আমার তো মনে ছিল না ২৬ তারিখ ওর অপারেশন। তাই আমি ওর কথায় রাজি হয়ে গেলাম। এতদিন অপেক্ষা করছি আর মাত্র পাঁচ দিন তাই আমি আর আপত্তি করিনি। পরের দিন আমি যখন ওর কাছে অপারেশনের তারেক জানতে চাইলাম তখন বলল ২৫ তারিখের কথা। এই কথা শোনার পর আমার অবস্থা তো আকাশ থেকে পড়ার মতো। আমি বললাম আমি এখন দেখতে চাই আমার Future wife কে।ও বলল আমি প্রমিস করছি ২৬ তারিখ যদি আমি সুস্থ হই তাহলে হসপিটালে বসে আমি কল দিব। আমি তখন কিছু বলতে পারলাম না। রাজি হয়ে গেলাম ওর জোর জবরদস্তির কারণে। তারপর আমাদের মধ্যে একটু প্রেম ভালোবাসা হলো, তারপর বলছিল আই লাভ ইউ জয়। অনেক ভালোবাসি তোমারে। আমি বাঁচতে চাই।
তোমার সাথে দেখা করব আমি সামনাসামনি, এটা আমার অনেক দিনের ইচ্ছা। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে "১৪ ই ফেব্রুয়ারি "আমাদের সামনাসামনি দেখা হবে। ও বলল ঠিক আছে আমি ১৪ ই ফেব্রুয়ারি কলাপাড়ায় আসবো তোমার সাথে দেখা করতে।
এইভাবে দেখতে দেখতে ২৩ তারিখ কেটে গেল। দিনগুলো কেমন যেন অনেক তাড়াতাড়ি কেটে যাচ্ছে।
২৪ তারিখ সে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তেমন কিছু খেতে পারছে না সারাক্ষণ বুকে ব্যথা। গতকাল রাতেও কল দিয়ে অনেক কান্না করে বলছি বাঁচতে চাই আমি বাঁচতে চাই,কিন্তু আমার মনে হয় আর বাঁচতে পারব না। আমি অনেকদিন বাঁচতে চাই আরো।আমি যে আসলে কি বলে সান্ত্বনা দিব ভেবে পাচ্ছিলাম না।
আমি শুধু এতটুকু বলছি যখন তোমার ভয় করবে বা যখন তোমার মনে হবে আর বাঁচতে পারবো না, তখন আমার নাম ধরে ডাকবা। আর বলবা আমি জয়ের জন্য বাঁচবো,আমার কিছু হবে না।
কথাগুলো যখন ওরে বলছিলাম তখন এত পরিমানে কান্না করছি আমি নিজে, যে নিজেকে বাচ্চা বাচ্চা মনে হচ্ছিল।
ও বলল জয় আমার কিছু শেষ ইচ্ছা আছে তুমি সেগুলো রাখবা?
আমি বললাম কিসের শেষ ইচ্ছে???
তোমার কিছু হবেনা। সে বলল আমারে বলতে দাও।
সে বলল কাল যদি আমার কিছু হয় তাহলে তুমি নিজের কোন ক্ষতি করবা না, ফ্রী ফায়ার গেমটা একটু খেলবা না, নিজের জীবনটা অন্য কাউকে দিয়ে সাজিয়ে নিবা, আমি তো শুধু সবকিছু নষ্ট করতে পারি। তুমি আমার থেকে ভালো কাউকে পাবে। সে তোমাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে চলে যাবে না।
আমি বললাম, আমার অন্য কাউকে লাগবে না, আমার তোমাকে লাগবে।সে বলল এটা হয়তো আর কোনদিন সম্ভব না। কারণ আমি বুঝতে পারছি আমি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছি ভিতরে ভিতরে।
তারপর আবার বলল আচ্ছা শোনো, আমি যদি ৪/৫ বছরের জন্য কোমায় চলে যাযই অপারেশনের পরে তখন কি করবে তুমি? ৪-৫ বছর পরে ফিরে আসলে তুমি কি ফিরিয়ে নেবে আমাকে?
আমি তখন হঠাৎ বোকার মত বলে ফেলছি, যে আমাকে ছাড়া ৪/৫ বছর থাকতে পারবে, তাকে ছাড়া আমি সারাজীবন থাকতে পারবো। এই কথাটা বলা আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল। এই কথাটা শোনার পর ওর তো পুরোপুরি ভেঙে পরে। আর কান্না শুরু করে দেয়। আমি বললাম প্লিজ কান্না করো না, তোমারে কান্না করতে দেখলে আমার কেমন লাগে বলো.....
ও কান্না বন্ধ করে একটু সময় চুপ করে রইলো। তারপর বলল আচ্ছা শোনো কাল আমার অপারেশন, যদি আগামী চার দিনের মধ্যে আমি কোন এসএমএস বা কল না দেই তাহলে ভাইবা নিবা আমি মারা গেছি। আর যদি বেঁচে থাকি তাইলে প্রমিস হাসপাতালে বসে আমি কল দিব। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি কল দিও।
এরপরে যা বলল তার জন্য আমি একটু প্রস্তুত ছিলাম না, ও বলল জয় আমি তোমাকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। হয়তো কালকের পর আর কেউ তোমার খোঁজ নেবে না, ভালোবাসবে না, কিন্তু প্রার্থনা করি আমার থেকেও ভালো কেউ আসবো তোমার জীবনে। আমি বললাম ওই চুপ করো। আমার তোমার থেকে ভালো কাউকে লাগবে না, তুমি হইলেই চলবে। আর শেষবারের মতো দেখতে চাই মানে কি? তুমি কি এখনই মরে যাবা নাকি? এত সহজ মরে যাওয়া? মরে যাই বললে কি মানুষ সত্যি সত্যিই মরে যায়?
ও বলল একটু বোঝার চেষ্টা করো, আমার যা অবস্থা আমি বুঝতে পারছি। আমি বাঁচতে পারবো না, একটু বুঝো। অনেক ভালবাসছিলাম, কিন্তু আমার ভুলের জন্যই এই দিনটা আমার দেখতে হচ্ছে। আমি যদি ডক্টরের দেওয়া ঔষধ গুলো ঠিকমতো খেতাম আর বাবা মায়ের কথা যদি ঠিকমতো শুনতাম তাহলে হয়তো তোমার, আমার, আর আমার বাবা মায়ের এই দিনটা দেখতে হতো না। আমি নিজের জীবনটা নিজের হাতে শেষ করে দিছি। আর এতদিনের অবহেলার কারণে আজ আমার এই অবস্থা।
আমি বললাম যা করছে তা নিয়ে আফসোস করে এখন কি লাভ? আমি তোমারে কতবার বলছি, প্রীতি নিজের যত্ন নিও,নিজের জন্য না হলেও আমার কথা ভেবে একটু নিজের যত্ন নিও, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া কর, নিজের একটু খেয়াল রেখো। সেই দিনগুলো তুমি একটা কথাও আমার শুনতে চাইতে না। আমার কথাগুলো শুনে ও আবার জোরে জোরে কান্না শুরু করলো। আমি ওরে বুঝাইলাম এখন কান্না করে কোন লাভ নেই যেটা হওয়ার সেটা হবেই।এখন ভগবান যদি আমাদের মিলন লিখে থাকে তবে কাল ২৫ তারিখের অপারেশনে তোমার কিছুই হবে না। আর যদি ভগবান না চায় তাহলে কাল......। আর কিছু না বলে আমি চুপ করে গেলাম। ও বলল কি হল চুপ করে গেলে কেন? বলো কাল কি? আমার কাছে বলার মতো কোন ভাষা ছিল না। আমি নিজেই ওর কথা শুনে দুর্বল হয়ে পড়ছি, কি বলবো বুঝতে পারছি না। ও বলল আচ্ছা বাদ দাও, কাল যা হবে তা তো হবেই। তুমি এখন তোমার ফোনের ক্যামেরাটা অন করো। আমি আমার জামাইটাকে একটু দেখবো। আমি বললাম ঠিক আছে ভিডিও কল দাও। তারপর কিছুক্ষণ কথা বললাম আরো। কিন্তু তখনও পুরোপুরি স্পষ্টভাবে ক্যামেরার সামনে ওর ফেইস আনেনি। একটা অন্ধকার রুমের মধ্যে ছিল সে।তাই ভালো মতো দেখা যাচ্ছিল না ওর মুখটা। এরপর কিছুক্ষণ কথা বলার পরে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে মানে অপারেশনের দিন আবার এসএমএস দিলাম ওই কি করো বউ? দেখি পাঁচ মিনিট আগে অফলাইনে চলে গেছে। মনে হয় সারারাত ঘুমায় নাই।আমি জিজ্ঞাসা করলাম অপারেশন কয়টায় করবে। ও বলল এইতো দশটায় করবে। একটু পরেই হসপিটালে যাব। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার শরীর ভালো আছে তো? ও বলল হ্যাঁ ভালো আছে।আমি বললাম কত ভালো আছে তা আমি জানি।
ও বলল জানো যখন, এখন আবার জিজ্ঞেস করো কেন?
("কেমন যেন একটু জোর গলায় বলো কথাটা")
তারপর আবার বলল শোনো জামাই আমি হয়তো আর বাঁচবো না। ডাক্তার বলছে তাদের হাতে কিছুই নাই, এখন শুধু তারা একটু চেষ্টা করে দেখতে পারে, আর বাকিটা ভগবানের হাতে। যদি ভগবান বাঁচায় তাহলেই হয়তো আমি বাঁচবো। আর বলল তুমি প্লিজ আমার কথাগুলো একটু শুইনো। তোমার এই পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হয়নি, সামনের পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হওয়া চাই। আর গেম খেলবা না একটুও। আমার জন্য নিজের জীবন একটু খারাপ করবে না। এখন যেমন আছে সব সময় এমনই থাকবা।
আমি বললাম যার জন্য জীবন সাজাইছিলাম সেই যদি না থাকে তাহলে আমার জীবনের যে কি হবে তা আমি জানি।
" আর ধন্যবাদ আমার কথায় এত চিন্তা করার জন্য"।
ও বলল এমন করে ছোট না করলে হয়তো পারতা আমাকে। আমি বললাম যেটা সত্যি সেটাই বলছি। কেউ আমার জীবনে আসবে, তারপরে এলোমেলো জীবনটাকে তার নিজের মত করে সাজাবে আবার কিছুদিন পরে আবার এলোমেলো করে চলে যাবে তা হবে না। আমি কোন সেলফিশকে আমার লাইফ পার্টনার বানাতে চাই না। ও বলল, তাই নাকি, আমি সেলফিস? আমি বললাম হ্যাঁ তুমি সেলফিস, অনেক বড় সেলফিস। সে বলল আমি সেলফিস বলেই তো গড আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবে। সেলফিসদের গড বেশিদিন পৃথিবীতে রাখেনা। আমার কিছু বলার আগেই আবার বলা শুরু করল, আমার অপারেশনের সময় হয়ে গেছে বের হব আমি অনলাইন থেকে। ভালো থেকো, আর শোনো যদি আমি চার দিনের মধ্যে ফিরে না আসি, আমার আইডি থেকে আমার সব ছবি ডিলিট করে দিবা। আর আইডি থেকে নাম্বার চেঞ্জ করে ফেলবা। আর তোমার ফোন থেকে আমার সব ছবি ডিলিট করে দিবা। আর গেম খেলবা না। কান্না করবা না কখনো, আমার জন্য ভালো থাকার চেষ্টা করবা। টাটা জামাই, একটুও যদি আমার কথা না শোনা তাহলে আমি মরেও কষ্ট পাবো।
{এই ছিল আমাদের মধ্যে হওয়া শেষ কথা}
তারপর আমি মোবাইলটা ঘরে রেখে একটু বাইরে গেছিলাম বড় ভাই ডাকছিল বলে। এসে দেখি সে অনলাইন থেকে বের হয়ে গেছে। তখন প্রায় ৯:৪৭ বাজে, ১০টায় ওর অপারেশন। আমি শেষ এসএমএস দিয়ে রাখছিলাম, আচ্ছা যাও সুস্থ হয়ে তারপর আবার এসএমএস দিবা। এই বলে আমিও বের হয়ে গেলাম ফেসবুক থেকে তারপর বাসায় ভালো না লাগার কারণে কলেজে চলে গেলাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে সারাদিন কেটে গেল। অপারেশনের কি অবস্থা সেটা খোঁজ নেব কিন্তু তার কোন উপায় নেই। হঠাৎ দুপুরবেলা মনে পড়লো ওর এক বান্ধবীর কথা। যে কলাপাড়াতেই থাকে। আমি তার আইডি খুজে বের করে এসএমএস দিলাম। Hi, Prite কেমন আছে? আমি সরাসরি জিজ্ঞাসা করলাম। প্রায় এক ঘন্টা বা তারও বেশি সময় পর রিপ্লাই দিলো। দাদা ওর অবস্থা ভালো না। বরিশালে অপারেশন করবে ভাবছিল সবাই কিন্তু সেখানে ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেও ওর হার্টের ভিতর দিয়ে রক্তপাত করতে পারছে না। আর ওর হার্ট ৩০% ব্লক ছিল কিন্তু এখন প্রায় ৭০% ব্লক হয়ে গেছে। ওর বাঁচার আশা নেই বললেই চলে। বরিশাল থেকে ফেরত দিয়ে দিছে এখন ঢাকা নিয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০ টায় অপারেশন শুরু করছে প্রায় ১২টা পর্যন্ত চেষ্টা করছিল কিন্তু পারে নাই তারা। তারপর এখন ঢাকা নিয়ে যাচ্ছে অপারেশন কমপ্লিট করার জন্য দেখি কি হয়। আমি বললাম আচ্ছা যদি কিছু জানতে পারো তাইলে আমাকে সাথে সাথে জানাবা।
ও বলল আচ্ছা ঠিক আছে দাদা।
তারপর আমিও একটু সময় রেস্ট নিলাম তারপর প্রাইভেট পড়তে গেলাম। প্রাইভেট থেকে ফিরে এসে বাসায় একটু পড়ালেখা করে রাতে আবার এসএমএস দিলাম Prite কেমন আছে..... ? কিছুক্ষণ পর বলল, দাদা ওর অবস্থা অনেক খারাপ। ৮ জন ডক্টর মিলে চেষ্টা করছে তারপরও কিছু করতে পারছে না। কতক্ষণ বাঁচতে পারবে জানিনা।
আমি বললাম কি বলো এসব...? ও বাঁচবে আর ওর সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। ওর বান্ধবী বলল, হ্যাঁ ডাক্তাররাও তাই বলছে, রোগী বাঁচতে চায় অনেক চেষ্টা করছে survive করার জন্য।
আমি বললাম আচ্ছা দেখি কি হয়। এই বলে অফলাইনে এ চলে গেলাম ফেসবুক থেকে।
ফেসবুক থেকে বের হওয়ার সব থেকে বড় কারণ ছিল যাতে একটু নিজেকে শান্ত করতে পারি। আসলে বলার মত না কতটা ভেঙে পড়েছিলাম আমি ভিতরে ভিতরে। তারপরও নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে কিছু হবে না ওর। অনেক ডাকছি ভগবানকে, অনেক কান্না করছি, ওর কথা ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি।
সকালে ঘুম ভাঙলো সাড়ে ছয়টার দিকে। তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিয়ে নেট অন করলাম তারপরে ফেসবুকে ঢুকলাম। এসএমএস চেক করে দেখি ওর বান্ধবী অনেকগুলো এসএমএস দিয়ে রাখছে। আমি পড়া শুরু করলাম। মেসেজগুলো পড়ে সকাল বেলা আমি বিছানায় বসে এত পরিমাণে কান্না করছি যে কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না। এসএমএসগুলো এমন ছিল যে আমার সারা শরীর অবোস হয়ে গেল সেগুলো পড়ার পর।
পরবর্তী অংশ পড়তে চাইলে View web version এ ক্লিক করুন তারপরে নিচে পরবর্তী অংশ নামের একটি লাল বাটনে ক্লিক করুন।
তার জন্য ছোট একটা ছন্দ আজকের দিনে দাড়িয়ে.........
"তুমি বলেছিলে চারদিন না ফিরলে ভেবে নিতে তুমি নেই,
আজ চার বছর কেটে গেল, তবুও মন মানতে চায় না সেই।
জামাই ডাকটা আজও কানে বাজে খুব ভোরে,
তুমি কি আছো কোনো এক নীল ধ্রুবতারা হয়ে?"



0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home